Manifesto

🟧 অখিল বঙ্গীয় জনতা পার্টি –ম্যানিফেস্টো 🟧

“শ্রম, সংস্কৃতি, স্বাবলম্বন — নতুন বাংলার প্রতিশ্রুতি”

১. নারী–স্বাবলম্বন ও সুরক্ষা

a.প্রতিটি মহিলাকে কুটির শিল্পে কর্মসংস্থান, বিশেষত ইলেকট্রনিক্স পার্টস–ভিত্তিক কাজ।
b.ভেষজ বিজ্ঞান প্রশিক্ষণ + ভেষজ উৎপাদনে সরাসরি অংশগ্রহণ।
c.মহিলা শক্তিকেই বাংলার ৫০% আর্থিক শক্তি হিসেবে পুনর্বিন্যাস।

২. বাস্তবমুখী শিক্ষা সংস্কার

a.প্রথাগত শিক্ষার সঙ্গে মেধাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক।
b. ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর হাতে একটি নির্দিষ্ট টেকনিক্যাল স্কিল।
c.কারিগরি শিক্ষা হবে শিল্প–কারখানার ভবিষ্যৎ চাহিদা অনুযায়ী, লোকদেখানো কোর্স নয়।

৩. আদিবাসী/জনজাতি সমাজের পুনর্জাগরণ

a.পশ্চিমবঙ্গের ৪০+ জনজাতির সংস্কৃতি, ভাষা ও ইতিহাসকে সংরক্ষণ।
b.প্রতিটি সম্প্রদায়ের বীর-বীরাঙ্গনার ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত।
c.তাদের ঐতিহ্যকে রাষ্ট্রীয় সম্মান ও আর্থিক সুযোগ দেওয়া।

৪. এক্সপোর্ট উইন্ডো – ব্লক লেভেলে বিদেশে বাজার

a.প্রতিটি ব্লকে একাধিক এক্সপোর্ট উইন্ডো।
b.স্থানীয় ভেষজ, সবজি, কুটির শিল্পের পণ্য সরাসরি বিদেশে এক্সপোর্ট—মাঝে কোনো বড় কোম্পানি নয়।
c.কুরিয়ারের মতো সহজ ব্যবস্থা: শূন্য কাগজপত্র, শূন্য দালালি।
d.মানুষ নিজ উদ্যোগে বিদেশি মুদ্রা আয় করতে পারবে—চাকরির ওপর নির্ভরতা কমবে।

৫. বহুত্ববাদী সমাজ ও শান্তি

a.প্রত্যেক সম্প্রদায় তাদের নিজ ধর্ম শান্তিতে পালন করবে।
b.ধর্মীয় উসকানি বা বৈরিতা সৃষ্টি করলে প্রশাসন কঠোর আইনি জবাব দেবে।
c.বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হবে অটুট, সুরক্ষিত।

৬. বাঙালি অস্মিতা ও সাংস্কৃতিক পুনরুত্থান

a.শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতিতে বাঙালির ঐতিহাসিক শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার।
b.বাংলার সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্যকে সর্বস্তরে অগ্রাধিকার নীতি।

৭. স্বাবলম্বী পরিবার, শক্তিশালী বাংলা

a.গ্রামের পরিবার থেকে শহরের পরিবার—প্রতিটি ঘর হোক উৎপাদনশীল, দক্ষ, আর্থিকভাবে স্বাধীন।
b.সরকার নয়, মানুষই হবে শক্তি, মানুষই হবে মালিক।

🔶 নয়া বাংলা। নয়া শক্তি। নয়া নেতৃত্ব। অখিল বঙ্গীয় জনতা পার্টি। 🔶

জনকল্যাণ, সুশাসন সাম্যভিত্তিক উন্নয়নের দশ দফা অঙ্গীকার

পশ্চিমবঙ্গের সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি, অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের দল নিম্নলিখিত দশ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে।


. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নৈতিক শিক্ষা

রাজ্যের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মনিরপেক্ষ নৈতিক শিক্ষার অংশ হিসেবে গীতা এবং কোরআনের (বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের ) বঙ্গানুবাদ শিক্ষার্থীদের অবগত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে পারস্পরিক সহনশীলতা সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় হয়।

. যুবসমাজের ঋণমুক্তি কর্মসূচি

কর্মসংস্থানের সংকটে ঋণগ্রস্ত যুবকযুবতীদের পুনর্বাসনের জন্য তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্র ব্যক্তিগত ঋণ এককালীন মুকুবের বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে এবং এই মুকুবের ফলে তাদের ক্রেডিট রেকর্ডে কোনো বিরূপ প্রভাব না পড়ে তা নিশ্চিত করা হবে।

. জৈব কৃষিতে প্রণোদনা

জৈব কৃষিকে উৎসাহিত করতে নিবন্ধিত অর্গানিক চাষীদের জন্য বিশেষ আর্থিক পুরস্কার, ভর্তুকি এবং বিপণন সুবিধা প্রদান করা হবে।

. মাদ্রাসা শিক্ষায় সমন্বিত নিয়োগ

সরকারি মাদ্রাসাগুলিতে সাধারণ শিক্ষার ক্ষেত্রে সকল ধর্মের যোগ্য শিক্ষকদের নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে এবং ধর্মীয় শিক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ মুসলিম শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।

. নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির স্বচ্ছতা

নির্বাচনের পূর্বে প্রার্থীদের প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিসমূহ শপথনামা (এফিডেভিট) আকারে দাখিল জনসমক্ষে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

. ভোটপরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধ

ভোট গণনার দিন শুধুমাত্র সামগ্রিক ফলাফল প্রকাশ এবং কেন্দ্রভিত্তিক বিস্তারিত ফলাফল নির্দিষ্ট সময় পর পর্যায়ক্রমে প্রকাশের বিষয়ে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে সহিংসতা হ্রাস পায়।

. স্থানীয় উৎপাদনের বৈশ্বিক বিপণন

প্রত্যেক ব্লক পর্যায়ে রপ্তানি সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যার মাধ্যমে কৃষক ক্ষুদ্র উৎপাদকরা সহজ প্রক্রিয়ায় তাদের উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রেরণ করতে পারবেন।

. সরকারি চাকরিতে আঞ্চলিক ভারসাম্য

মেধাভিত্তিক নিয়োগের পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া জেলা গ্রামীণ অঞ্চলের প্রার্থীদের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষাকারী নিয়োগনীতি প্রণয়ন করা হবে।

. সীমান্ত নিরাপত্তায় জনসম্পৃক্ততা

রাজ্যের আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষায় নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়াতে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য পুরস্কারভিত্তিক ব্যবস্থা । পশ্চিমবঙ্গ একটি আন্তর্জাতিক বর্ডার স্টেট। তাই  অনুপ্রবেশকারী আটকানোর জন্য জনসাধারণকে ক্ষমতা দিতে হবে, অনুপ্রবেশকারীর খোঁজ দিলে তাকে আর্থিক পুরস্কার দিতে হবে। এবং যে সম্পত্তি উদ্ধার হবে তার পাঁচ শতাংশ হুইসেল ব্লোয়ার কে দিতে হবে। তার জন্য রাজ্যভিত্তিক এবং কেন্দ্রভিত্তিক টোল ফ্রি  নাম্বার জারি করতে হবে|

১০. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নাগরিক সুরক্ষা

এথিস্টদের সরকারি সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে করে সমাজের ধর্মান্ধ উন্মাদদের হাত থেকে তারা নিজেদেরকে বাঁচিয়ে সমাজের মেইন স্রোতে থাকতে পারে।


🔶 আমাদের অঙ্গীকার

আমরা বিশ্বাস করি, এই দশ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে শান্তি, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। জনগণের আস্থা সহযোগিতাই আমাদের প্রধান শক্তি।